টিকটিকি তাড়ানোর ঘরোয়া উপায়
টিকটিকির পরিচিতি:
টিকটিকি
(বৈজ্ঞানিক নাম: Hemidactylus frenatus)
সরীসৃপ জাতীয় মেরুদণ্ডী প্রাণী। দেখতে
কুমীরের ছোট
সংস্করন মনে হতে পারে, যদিও এরা নিকট আত্মীয় নয়। পায়ের আঙুলের আঠালো
(কোন তরল নেই, সূক্ষ্ম
খাঁজকাটা বিরাট ক্ষেত্রফলযুক্ত) পাতার
সাহায্যে টিকটিকি ঘরের দেয়ালে ছাদে
স্বচ্ছন্দে চলাচল করতে পারে।টিকটিকি
সাধারনত সাড়ে সাত থেকে
পনের সেন্টিমিটার(তিন থেকে ছয়
ইঞ্চি) লম্বা হয়।
এটির জীবনকাল প্রায় পাঁচ বছর।টিকটিকির
কপাল অবতল এবং এর
কানের খোলা অংশ ছোটো
ও গোলাকার। এতি
গায়ের রঙ ধূষর, অতি
হালকা গোলাপী অথবা বাদামী
হতে পারে এবং দেহে
ডোরাকাটা দাগ থাকে।টিকটিকির লেজ বাহিরের দিকে
চিঁকন হয়ে গেছে এবং
এটি অত্যন্ত অন্নুনত, যা অল্প আঘাতে
খসে পড়ে। টিকটিকি
অতি মসৃন দেয়ালে চলা
ফেরা করতে পারে, কারণ
এটি যখন পা ফেলে
তখন পায়ের নিচে বায়ু
শূন্য হয়ে যায় এর
পায়ের গঠনের জন্য।
ফলে পা দেয়ালে আঁটকে
থাকে এবং এই আঁটকে
থাকার উপর শরীরের ভর
দিয়ে টিকটিকি অনায়াসে চলাফেরা করে।
টিকটিকির ভয়াবহতা: এই প্রাণী খুবই বিষাক্ত। বিশেষ করে টিকটিকির ত্বক ও বর্জ্য শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকারক। যখন তখন খাবারের মধ্যে বা গায়ের উপর পড়ে নানা সংক্রমণ ও ত্বকের প্রদাহ তৈরি করতে পারে এটি।
১. টিকটিকি তাড়াতে ন্যাপথলিন:
ন্যাপথলিনের গোটা টিকটিকি তাড়াতে দারুণ ভূমিকা রাখে। ঘরের কোণা ও ফাঁক-ফোকরে ন্যাপথলিনের গোটা দিয়ে রাখুন। ধীরে ধীরে টিকটিকি কমে যাবে।
২.টিকটিকি তাড়াতে কফি-ট্যোবাকো পাউডার:
কফি পাউডার ও টোব্যাকো পাউডার এক সাথে মিশিয়ে টিকটিকি তাড়ানোর ঔষধ বানাতে পারেন। ঘরের যে স্থানে টিকটিকির উৎপাত বেশি সে স্থানে এই ঔষধ দিয়ে রাখুন। এগুলো খেলে টিকটিকি মারা পড়বে।
৩.টিকটিকি তাড়াতে পেয়াঁজ-রসুনের রস:
স্প্রে বোতলে পেঁয়াজের রস ভরে নিয়ে সাথে কয়েক ফোঁটা রসুনের রস মিশিয়ে সারা ঘরে ছিটিয়ে দিতে পারেন। এর ঝাঁঝ গন্ধে টিকটিকি দৌঁড়ে পালাবে।
৪.টিকটিকি তাড়াতে ডিমের খোসা:
টিকটিকির উৎপাত কমাতে নির্দিষ্ট কয়েকটি জায়গায় ডিমের খোসা ছড়িয়ে রাখুন। এই গন্ধে অল্প সময়েই টিকটিকি মুক্ত হবে জায়গাটি।
টিকটিকির উৎপাত কমাতে নির্দিষ্ট কয়েকটি জায়গায় ডিমের খোসা ছড়িয়ে রাখুন। এই গন্ধে অল্প সময়েই টিকটিকি মুক্ত হবে জায়গাটি।
৫.টিকটিকি তাড়াতে রসুন:
টিকটিকির উৎপাত কমাতে রসুন খুবই কার্যকরী। জানালার পাশে বা ভেন্টিলেটরে রসুনের কোয়া রেখে দিন। এর গন্ধে বাড়ি টিকটিকি মুক্ত হবে সহজেই।
টিকটিকির উৎপাত কমাতে রসুন খুবই কার্যকরী। জানালার পাশে বা ভেন্টিলেটরে রসুনের কোয়া রেখে দিন। এর গন্ধে বাড়ি টিকটিকি মুক্ত হবে সহজেই।
৬.টিকটিকি তাড়াতে পেঁয়াজ:
পেঁয়াজের মধ্যে থাকা সালফারের গন্ধ টিকটিকি সহ্য করতে পারে না। তাই টিকটিকির চলাচলের পথে বা জানালার কোণে কয়েক টুকরো পেঁয়াজ কিছু সময়ের জন্য রেখে দিলে প্রাণিটি পালাবে।
পেঁয়াজের মধ্যে থাকা সালফারের গন্ধ টিকটিকি সহ্য করতে পারে না। তাই টিকটিকির চলাচলের পথে বা জানালার কোণে কয়েক টুকরো পেঁয়াজ কিছু সময়ের জন্য রেখে দিলে প্রাণিটি পালাবে।
৭.টিকটিকি তাড়াতে শুকনো মরিচ:
গোলমরিচ বা শুকনো মরিচের গুঁড়ার গন্ধ টিকটিকির মস্তিষ্ক অবশ করে দেয়। শরীরের অস্বস্তি এড়াতে এই গন্ধ থেকে দূরে থাকতে চায় প্রাণিটি। এজন্য শুকনো মরিচের গুঁড়া পানিতে মিশিয়ে যেসব জায়গায় টিকটিকি বেশি সেখানে স্প্রে করুন। এতে প্রাণিটির উপদ্রব কমে যাবে। তবে বাসায় শিশু থাকলে এই পদ্ধতি অবলম্বনের সময় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। কোনওভাবেই যেন শিশুরা এতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেটা আগে নিশ্চিত করুন।
টিকটিকি ময়ূরের পাখনা দেখে ভয় পায়। তাই ঘর থেকে টিকটিকি দূর করতে ঘরের দেয়ালে ময়ূরের পালক ঝুলিয়ে রাখুন।
একটি স্প্রে বোতলে বরফ জল নিয়ে টিকটিকির গায়ে স্প্রে করুন। এতে টিকটিকির শরীরের তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় এটি নড়াচড়া করতে পারবে না। ওই সুযোগে টিকটিকি ধরে ঘরের বাইরে ফেলে দিন।
১০. টিকটিকি তাড়াতেঠান্ডা পানি স্প্রে:
টিকটিকি তাড়াতে ঠান্ডা পানির ট্রিটমেন্ট কাজে লাগিয়ে দেখতে পারেন। একটা স্প্রে বোতলে ঠাণ্ডা বরফ পানি নিয়ে কোনো টিকটিকির উপর স্প্রে করুন। হঠাৎ শরীরের তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় টিকটিকিটি নড়াচড়া করতে পারবে না।
এই সুযোগে ঝাড়ু দিয়ে ঘরের বাইরে ফেলে দিয়ে আসুন।
সম্পূর্ণ ভাবে দুর করতে চিটাগাং পেস্ট কন্ট্রোল-এ যোগাযোগ করতে পারেন। এতকিছু করেও যদি সফল না হন অথবা আপনার সময় না থাকে তবে যোগাযোগ করতে পারেন চিটাগাং পেস্ট কন্ট্রোল এর সাথে অথবা ০১৬৩৪৯০২২৩৫ নম্বরে।
Comments
Post a Comment